ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

"ক্ষমতার লোভ ইতিহাসের অংশ, শেখ মুজিবকেও ছাড়লেন না আউয়াল"


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৬ জুন, ২০২৫ সময় : ৫:১২ পিএম

স্টাফ রিপোর্টার

রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রহসনের নির্বাচন আয়োজন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল আদালতে বলেছেন, "ক্ষমতার লোভ এমন একটি বিষয়, যা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও সামলাতে পারেননি।" তিনি আরও দাবি করেন, মৌলিক সংস্কার ছাড়া আগামী এক হাজার বছরেও বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে রিমান্ড শুনানিতে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

আদালতে আনা রিমান্ড আবেদন

সকাল ১২টা ৫০ মিনিটে কাজী হাবিবুল আউয়ালকে আদালতে হাজির করা হয় এবং তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার।

রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি বলেন, "কাজী হাবিবুল আউয়াল ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন। তার নেতৃত্বে ২০২৪ সালের জানুয়ারি একটি একতরফা প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আওয়ামী লীগ দু-একটি দল ছাড়া কেউ অংশ নেয়নি।"

তিনি আরও অভিযোগ করেন, "সিইসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি একাধিকবার বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন এবং নির্বাচনকালীন বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।" রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, কাজী হাবিবুল আউয়ালের বক্তব্য ছিল সংবিধানবিরোধী এবং রাষ্ট্রদ্রোহমূলক।

আউয়ালের বক্তব্য

রিমান্ড শুনানির সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের বক্তব্য দেন কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন, "এই নির্বাচন ( জানুয়ারি) সত্যিই একটি ডামি নির্বাচন ছিল। আমি একা এই প্রক্রিয়ায় দায়ী নই। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের মাত্র ভাগ, বাকি ৯৮ ভাগ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের।"

তিনি আরও বলেন, "১৯৭৩ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ ২৯৩টি আসনে জয় পায়, অথচ সেই নির্বাচনও সুষ্ঠু ছিল না। শেখ মুজিবও ক্ষমতার লোভ সামলাতে পারেননি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইতে চাইতে আওয়ামী লীগ নিজেরাই সংবিধান পরিবর্তন করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়।"

আদালতের প্রশ্ন মন্তব্য

বিচারক বলেন, "নির্বাচনী ইনকোয়ারি কমিটির ভাতা ২২ হাজার টাকা থেকে লাখে উন্নীত করা হয়েছিল, যা জনগণের অর্থ অপচয়ের শামিল।" আউয়াল জবাবে বলেন, "সম্ভবত পাঁচ বছরের মুদ্রাস্ফীতি হিসেব করে এই পরিবর্তন করা হয়েছিল।"

বিচারক আরও প্রশ্ন করেন, "নির্বাচনের আগে এমন পরিস্থিতি জেনে আপনি পদত্যাগ করেননি কেন?" আউয়াল উত্তর দেন, "ওই অবস্থায় পদত্যাগ সম্ভব ছিল না। যদি জানতাম এমন হবে, দায়িত্বই নিতাম না।"

উত্তপ্ত পরিস্থিতি

আদালতে বক্তব্য চলাকালে সরকারি কৌঁসুলি বলেন, "আসামি নিজেকে জাস্টিফাই করছেন। তার এই বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই।" উত্তরে আউয়াল বলেন, "জাস্টিফাই করতে না দিলে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলুন!" এসময় এজলাসে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং আইনজীবীরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন।

আদালত শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে, ২৫ জুন মগবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার পটভূমি

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে কারচুপি, গায়েবি মামলা, নিখোঁজ, খুন, গণগ্রেপ্তারসহ নানা অভিযোগ এনে বিএনপির পক্ষ থেকে গত ২২ জুন রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করা হয়। মামলার বাদী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহউদ্দিন খান। মামলায় ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তিনজন সাবেক সিইসি এবং ছয়জন সাবেক বর্তমান আইজিপি। পরবর্তীতে মামলায় রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রতারণা অর্থ আত্মসাতের ধারাও যুক্ত করা হয়।

আকাশজমিন/আরআর

 

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর